মেডিসিনের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা
বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন রোগের কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ওষুধের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন, অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ, অ্যান্টিবায়োটিকের অসম্পূর্ণ কোর্স গ্রহণ, ব্যথানাশক ও ঘুমের ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার—এসবই ওষুধের অপব্যবহারের উদাহরণ। এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুধু রোগ নিরাময়ে ব্যর্থই করে না, বরং নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে এবং কখনও কখনও জীবনহানির কারণও হতে পারে।
বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে সাধারণ সংক্রমণও ভবিষ্যতে জটিল ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে স্টেরয়েড, ঘুমের ওষুধ, সেডেটিভ ও ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন বা মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করলে কিডনি, লিভার, হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ওষুধের প্রতি নির্ভরশীলতা বা আসক্তিও তৈরি হয়।
শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। ভুল মাত্রা, ভুল সময়ে সেবন বা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিটি ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত ডোজ, সময় ও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত গ্রহণ করা উচিত। কোনো ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
ওষুধ কেনার সময় অবশ্যই নিবন্ধিত ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হবে এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা সংরক্ষণের নিয়ম না মানা ওষুধ ব্যবহার করা বিপজ্জনক। এছাড়া অব্যবহৃত বা অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে নিজে বা অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।
মেডিসিনের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনে চলা এবং ফার্মাসিস্টের যথাযথ পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওষুধ জীবন রক্ষার জন্য, ক্ষতির জন্য নয়। তাই সচেতনভাবে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ওষুধ ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি সমাজও অপ্রয়োজনীয় ওষুধজনিত ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকবে।
Comments
Post a Comment